বাংলাদেশে নারী পরিচালিত ‘পিংক বাস’, নিরাপদ গণপরিবহনের এক নতুন অধ্যায়
বাংলাদেশের গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২৬ সালে বিআরটিসির উদ্যোগে নারী পরিচালিত ‘পিংক বাস’ চালুর ঘোষণা দেওয়া হয় এবং ১৮ আগস্ট ২০২৬ সালে চালু হয়। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে এই বিশেষ বাসসেবার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল, বাসের চালক, কন্ডাক্টর, হেলপার ও ভাড়া সংগ্রহকারী—সবাই নারী। অর্থাৎ, এটি শুধু নারীদের জন্য সংরক্ষিত বাসই নয়, বরং নারীদের দ্বারাই পরিচালিত একটি গণপরিবহন ব্যবস্থা। বাসের যাত্রীও শুধুমাত্র নারীরা।
পিংক বাস চালুর মূল উদ্দেশ্য ছিল গণপরিবহনে নারীদের হয়রানি কমানো এবং তাদের জন্য নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা। দীর্ঘদিন ধরে বাসে উঠতে না পারা, অতিরিক্ত ভিড়, যৌন হয়রানি এবং অস্বস্তিকর পরিবেশের মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছিলেন নারী যাত্রীরা। এসব সমস্যা দূর করতেই সরকার এই উদ্যোগ গ্রহণ করে।
নারী বাসচালকদের গাজীপুরের বিআরটিসি ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকার ১০টি রুটে ১০টি বাস চলার কথা ছিল। এর মধ্যে ১টি একতলা এবং ৯টি দ্বিতল বাস। এ ছাড়া বগুড়ার ২টি রুটে ২টি এবং চট্টগ্রামের ১টি রুটে ২টি দ্বিতল বাস চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। তিন জেলায় মোট ১৩৪টি স্টপেজ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
সরকার আরও জানিয়েছিল, পর্যায়ক্রমে বাসের সংখ্যা ও রুট বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ২০০টি বৈদ্যুতিক (ইভি) বাস আনার পরিকল্পনা করা হয়, যার মধ্যে ১০০টি বাস নারীদের জন্য বরাদ্দ রাখার কথা বলা হয়েছিল। ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য বিভাগেও নারী পরিচালিত বাসসেবা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে:
- বাসের নাম: পিংক বাস (মহিলা বাস সার্ভিস)
- চালু হয়: ১৮ আগস্ট ২০২৬
- পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান: বিআরটিসি
- উদ্বোধনস্থল: তেজগাঁও বিআরটিসি ট্রাক ডিপো, ঢাকা
- উদ্বোধন করেন: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
- নারী চালকদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র: গাজীপুর বিআরটিসি ট্রেনিং সেন্টার
- ঢাকায় বাসের সংখ্যা: ১০টি
- বগুড়ায় বাসের সংখ্যা: ২টি
- চট্টগ্রামে বাসের সংখ্যা: ২টি
- মোট স্টপেজ: ১৩৪টি
- পরিকল্পিত ইভি বাস: ২০০টি
- নারীদের জন্য সংরক্ষিত ইভি বাস: ১০০টি