×
হোম আন্তর্জাতিক জাতীয় খেলাধুলা জীবনযাপন চাকরির খবর তথ্যকোষ ম্যাগাজিন
অনলাইন টুলস
টাইপিং টেস্ট CV মেকার ফটো রিসাইজার Age ক্যালকুলেটর AI কন্টেন্ট ডিটেক্টর প্লাজিয়ারিজম চেকার অন্যান্য টুলস লগইন

চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ছে: বাড়তে পারে নিয়োগ বাণিজ্য ও দলীয় নিয়োগ

বিদেশ বার্তা | জাতীয় | ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
News Image

সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগ পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রস্তাবিত নতুন বিধিমালায় কোনো কোনো গ্রেডে ভাইভার নম্বর বর্তমানের তুলনায় সর্বোচ্চ ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে লিখিত পরীক্ষার নম্বর ও পাসের ন্যূনতম নম্বর কমানোর প্রস্তাবও রয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১ ও ১২তম গ্রেডে লিখিত পরীক্ষার নম্বর ৯০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ এবং ভাইভার নম্বর ১০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করার কথা বলা হয়েছে। ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডে লিখিত ৯০ থেকে কমিয়ে ৬০ এবং ভাইভা ১০ থেকে বাড়িয়ে ৪০ করা হবে। আর ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে লিখিত পরীক্ষা ৪০ থেকে কমিয়ে ২৫ এবং ভাইভা ১০ থেকে বাড়িয়ে ২৫ করার প্রস্তাব রয়েছে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন গ্রেডগুলোর ক্ষেত্রে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর সমান হয়ে যাবে।

শুধু তাই নয়, লিখিত পরীক্ষায় পাসের ন্যূনতম নম্বরও কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। ১১–১২তম গ্রেডে লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৫ শতাংশ এবং ১৩–১৬তম গ্রেডে ৫০ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে অসদুপায়ের ঘটনা ঠেকানো এবং প্রকৃত যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের লক্ষ্যেই পরীক্ষার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে একজন প্রার্থীর যোগাযোগ দক্ষতা, উপস্থিত বুদ্ধি, ব্যক্তিত্ব ও চাকরির উপযোগিতা যাচাই করা সম্ভব—এমন যুক্তিও রয়েছে।

তবে এখানেই প্রশ্ন তুলছেন চাকরিপ্রার্থী ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের অনেকে। কারণ লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে ভাইভার গুরুত্ব অনেক বাড়ানো হলে চূড়ান্ত ফলাফলে মৌখিক পরীক্ষার প্রভাব ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে। বিশেষ করে ১৭–২০তম গ্রেডে মোট ৫০ নম্বরের মধ্যে ২৫ নম্বরই থাকবে ভাইভার জন্য। ফলে লিখিত পরীক্ষায় ভালো করা কোনো প্রার্থী ভাইভায় কম নম্বর পেলে পিছিয়ে পড়তে পারেন, আবার লিখিত পরীক্ষায় তুলনামূলক কম নম্বর পাওয়া প্রার্থী ভাইভায় বেশি নম্বর পেলে এগিয়ে যেতে পারেন।

সসমালোচকদের আশঙ্কা, এ ধরনের ব্যবস্থায় নিয়োগ বোর্ডের হাতে প্রার্থীর চূড়ান্ত অবস্থান প্রভাবিত করার সুযোগ বাড়তে পারে। এর ফলে স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা পছন্দের প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠার ঝুঁকিও তৈরি হবে। বিশেষ করে অতীতে সরকারি চাকরিতে দলীয় প্রভাব ও অনিয়ম নিয়ে নানা অভিযোগ থাকায় ভাইভার নম্বর বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তবে, প্রস্তাবিত বিধিমালাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তাই প্রস্তাবিত মানবণ্টনই শেষ সিদ্ধান্ত—এমনটি বলার সুযোগ নেই। চূড়ান্ত বিধিমালায় কী ধরনের মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়, সেটিই হবে আসল বিষয়।

সরকার যদি প্রকৃতপক্ষে অসদুপায় ঠেকিয়ে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করতে চায়, তাহলে শুধু ভাইভার নম্বর বাড়ানো নয়, পুরো মৌখিক পরীক্ষার প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করাও জরুরি। কারণ ভাইভার নম্বর বাড়ানো নিজে থেকেই দলীয় নিয়োগের প্রমাণ নয়, কিন্তু যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এটি প্রভাবশালী বা পছন্দের প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

0 লাইক

আপনার মতামত দিন

মন্তব্য করতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।