তবে কি বিলুপ্ত হচ্ছে র্যাব! আসছে নতুন বাহিনী?
বাংলাদেশের এলিট বাহিনী র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন একটি বিশেষায়িত বাহিনী গঠনে কাজ করছে সরকার। তবে সরকার বলছে, এটি শুধু বাহিনী বিলুপ্তির বিষয় নয়; বরং নতুন আইনের আওতায় কাঠামোগত সংস্কার ও জবাবদিহিমূলক একটি বাহিনী প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া।
বাহিনীটি দীর্ঘদিন ধরে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের মুখে রয়েছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা অতীতে বাহিনীটির ব্যাপক সংস্কার বা বিলুপ্তির আহ্বান জানিয়েছে। নতুন সরকার তার সংস্কার উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাহিনী ভিতরে জবাবদিহিমূলক ও আইনগত কাঠামো তৈরির বিষয়টি সামনে এসেছে।
২০২৬ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান জানান, র্যাবকে সরাসরি বিলুপ্ত করা হচ্ছে না; বরং একটি পূর্ণাঙ্গ আইনের মাধ্যমে বাহিনীটিকে নতুন কাঠামোয় রূপান্তর করা হবে। তিনি বলেন, নতুন আইনের আওতায় বাহিনীর নাম, ইউনিফর্ম এবং কার্যপদ্ধতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে।
জুন ২০২৬-এর খসড়া আইনের তথ্য অনুযায়ী—
- বর্তমান র্যাব আইন বাতিল করা হবে।
- নতুন একটি আইন পাস হওয়ার পর র্যাবের সাংগঠনিক কাঠামো নতুন বাহিনীতে স্থানান্তর করা হবে।
- বাহিনীর সদস্যদের বড় অংশ নতুন প্রতিষ্ঠানে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।
- মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ মোকাবিলায় স্বাধীন অভিযোগ গ্রহণ ও তদারকি ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
- বাহিনীর ক্ষমতা, জবাবদিহিতা ও কার্যপরিধি আইন দ্বারা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে।
নতুন বাহিনীর নাম কি হবে তা নিয়ে একাধিক খসড়া ও প্রতিবেদনে ভিন্ন ভিন্ন নাম উঠে এসেছে।
- People's Protection Forces (PPF) নামের একটি প্রস্তাব প্রকাশিত হয়েছে।
- অন্য কিছু প্রতিবেদনে Special Response Battalion (SRB) নামের কথাও বলা হয়েছে।
অর্থাৎ, চূড়ান্ত সরকারি গেজেট বা আইন না হওয়া পর্যন্ত নতুন বাহিনীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, র্যাব এখনও কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে সরকার নতুন আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে এবং আইন কার্যকর হলে বর্তমান র্যাবের পরিবর্তে নতুন কাঠামোর বাহিনী চালু হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, এই মুহূর্তে র্যাব আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হয়নি।