×
হোম আন্তর্জাতিক জাতীয় খেলাধুলা জীবনযাপন চাকরির খবর তথ্যকোষ ই-ম্যাগাজিন
অনলাইন টুলস
টাইপিং টেস্ট CV মেকার ফটো রিসাইজার Age ক্যালকুলেটর AI কন্টেন্ট ডিটেক্টর প্লাজিয়ারিজম চেকার অন্যান্য টুলস লগইন

NTRCA নয়, ম্যানেজিং কমিটির হাতে যেতে পারে বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ

বিদেশ বার্তা | জাতীয় | ১০ আগস্ট, ২০২৬
News Image

নিজস্ব প্রতিবেদক

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশের ক্ষমতা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এর কাছে থেকে সরিয়ে আবারও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে দেওয়ার প্রস্তাব উঠেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। বিষয়টি বর্তমানে আলোচনা ও যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় ম্যানেজিং কমিটি মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাব উঠে আসে। এর পেছনে মূলত শিক্ষকরা নিজ জেলা বা উপজেলার বাইরে দূরের প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে নিয়োগ চালু হলে প্রার্থীরা নিজ এলাকা বা কাছাকাছি প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ বেশি পাবেন—এমন যুক্তিও সামনে এসেছে।

পূর্বে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয় বা দৈনিকে শূন্যপদের বিপরীতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করত এবং প্রার্থীরা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতেন। এরপর ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির অধীনে গঠিত নিয়োগ বোর্ড লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে প্রার্থী নির্বাচন করত। শেষ পর্যন্ত কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই নিয়োগ দেওয়া হতো।

তবে আগের ব্যবস্থায়ও শিক্ষক পদে আবেদন করতে শিক্ষক নিবন্ধন সনদ থাকা আবশ্যক ছিল। অর্থাৎ নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া চাকরির নিশ্চয়তা দিত না; প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েও প্রার্থীকে যেতে হতো।

২০০৫ সালে এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠার পর সংস্থাটির মূল কাজ ছিল শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নেওয়া ও সনদ দেওয়া। পরে ২০১৫ সালের শেষ দিকে নিবন্ধনধারীদের সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সুপারিশের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সাল পর্যন্ত এনটিআরসিএ এক লাখ ৭৭ হাজার ৫৭১ জন শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে। এই ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানের শূন্যপদ ও প্রার্থীদের মেধাক্রম বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে প্রার্থী বাছাইয়ের সরাসরি ক্ষমতা থাকে না।

ম্যানেজিং কমিটির হাতে নিয়োগ ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, নিয়োগ প্রক্রিয়া যদি আবার প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কমিটির হাতে চলে যায়, তাহলে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, স্বজনপ্রীতি এবং আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। অতীতে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগে এসব অভিযোগ থাকার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তবে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ ফিরলে নিশ্চিতভাবেই ঘুষ বাড়বে—এমন কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। এটি মূলত শিক্ষক ও চাকরিপ্রার্থীদের আশঙ্কা এবং অতীত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে করা সম্ভাব্য ঝুঁকির বিশ্লেষণ।

এদিকে নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী। তিনি দাবি করেছেন, এমন সিদ্ধান্ত হলে সারাদেশে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং প্রয়োজনে শিক্ষক-কর্মচারীরা কর্মবিরতিতেও যেতে পারেন।

শিক্ষক ও চাকরিপ্রার্থীদের একটি অংশের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্থানীয়তার সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা যেতে পারে; কিন্তু কেন্দ্রীয় মেধাভিত্তিক নিয়োগের স্বচ্ছতা নষ্ট করে সরাসরি ম্যানেজিং কমিটির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হলে তা নতুন করে অনিয়মের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

0 লাইক

আপনার মতামত দিন

মন্তব্য করতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।