×
হোম আন্তর্জাতিক জাতীয় খেলাধুলা জীবনযাপন চাকরির খবর তথ্যকোষ ই-ম্যাগাজিন
অনলাইন টুলস
টাইপিং টেস্ট CV মেকার ফটো রিসাইজার Age ক্যালকুলেটর AI কন্টেন্ট ডিটেক্টর প্লাজিয়ারিজম চেকার অন্যান্য টুলস লগইন

সিন্ধু নদীতে ভারতের চেক ড্যাম, পাকিস্তানের উদ্বেগ

বিদেশ বার্তা | উপমহাদেশ | ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
News Image

লাদাখে সিন্ধু নদীর ওপর ভারতের নির্মিত একটি রক চেক ড্যামকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভারত-পাকিস্তানের পানি বিরোধ। ভারতের দাবি, লাদাখের পানিসংকট মোকাবিলা, কৃষিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি ও স্থানীয়ভাবে পানি সংরক্ষণের লক্ষ্যেই এই ছোট বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। তবে পাকিস্তানের দৃষ্টিতে, সিন্ধু নদীর উজানে ভারতের পানি নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা বাড়ানো এই ড্যামের উদ্দেশ্য।

লাদাখের উপশি এলাকায় নির্মিত চেক ড্যামটি প্রায় ২০০ ফুট দীর্ঘ। পাথর দিয়ে তৈরি এই কাঠামোতে প্রায় ৪ কোটি লিটার পানি ধরে রাখা যায় বলে জানিয়েছে লাদাখ প্রশাসন। এর মাধ্যমে নদীর পানির উচ্চতা কিছুটা বাড়িয়ে আশপাশের কৃষিজমিতে সেচের পানি সরবরাহ সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে বিষয়টি শুধু একটি ছোট বাঁধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। লাদাখ প্রশাসন ইতোমধ্যে আরও ৩৬টি চেক ড্যাম নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে। ফলে পাকিস্তানের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে সিন্ধু নদীর উজানে এ ধরনের আরও পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো তৈরি হলে নদীর প্রবাহের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পরবে, এবং ভারতের নদী নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা বাড়াবে, যে ক্ষমতা ভারতের মত শত্র ভাবাপন্ন দেশের কাছে থাকা নিরাপদ নয়।

পাকিস্তানের ক্ষতি কোথায়?

সিন্ধু নদী পাকিস্তানের কৃষি ও পানি ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি অনুযায়ী সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব নদীর পানি ব্যবহারে পাকিস্তানের প্রধান অধিকার রয়েছে। যদিও চুক্তি ভারতকে নির্দিষ্ট শর্তে এসব নদীর পানি ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে।

এ কারণে পাকিস্তানের আশঙ্কা মূলত একটি চেক ড্যামের তাৎক্ষণিক ক্ষতি নিয়ে নয়; বরং উজানে ভারতের ধারাবাহিক পানি নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে। তবে এই চেক ড্যামের আকার ও ধারণক্ষমতা বিবেচনায় এটি এখনই পাকিস্তানের পানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি করবে—এমন দাবি করা যায় না।

চুক্তি লঙ্ঘন হয়েছে কি?

এটি নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও সরাসরি ‘আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন’ বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া কঠিন। সিন্ধু পানি চুক্তিতে পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোতে ভারতের পানি ব্যবহারের কিছু অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে পানি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ভারতের ওপর নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।

তাই উপশির চেক ড্যাম চুক্তির কোন বিধানের আওতায় পড়ে, সেটি নির্ভর করবে প্রকল্পটির প্রকৃতি, পানি আটকে রাখার পরিমাণ ও ব্যবহারের উদ্দেশ্যের ওপর।

যুদ্ধের আশঙ্কা কতটা?

সিন্ধুর পানি নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। বিশেষ করে ২০২৫ সালের পর সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে দুই দেশের বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। ফলে নতুন কোনো বড় পানি প্রকল্প ভবিষ্যতে কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।

তবে শুধু এই ছোট চেক ড্যামকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। বরং নিকট ভবিষ্যতে কূটনৈতিক বিরোধ, আন্তর্জাতিক আইনি লড়াই এবং পানি প্রকল্প নিয়ে পারস্পরিক চাপ বৃদ্ধির সম্ভাবনাই বেশি।

তবে লাদাখে যদি ভবিষ্যতে বড় আকারের জলাধার বা পানি নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প নির্মাণ করা হয় এবং তাতে পাকিস্তানের দিকে সিন্ধু নদীর পানির প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত হয়, তাহলে পরিস্থিতি অনেক বেশি গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

সুতরাং, উপশির চেক ড্যাম নিজে পাকিস্তানের জন্য বড় পানি সংকট তৈরি করার মতো প্রকল্প না হলেও, সিন্ধু নদীর উজানে ভারতের ক্রমবর্ধমান পানি অবকাঠামো নিয়ে পাকিস্তানের দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগকে এটি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

0 লাইক

আপনার মতামত দিন

মন্তব্য করতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।