×
হোম আন্তর্জাতিক জাতীয় খেলাধুলা জীবনযাপন চাকরির খবর তথ্যকোষ ই-ম্যাগাজিন
অনলাইন টুলস
টাইপিং টেস্ট CV মেকার ফটো রিসাইজার Age ক্যালকুলেটর AI কন্টেন্ট ডিটেক্টর প্লাজিয়ারিজম চেকার অন্যান্য টুলস লগইন

নেপালের ভয়াবহ বন্যা: এত প্রাণহানির দায় কার, কোথায় ছিল ব্যর্থতা?

বিদেশ বার্তা | উপমহাদেশ | ২৮ আগস্ট, ২০২৬
News Image

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় একের পর এক লাশ উদ্ধার হচ্ছে, বাড়ছে নিখোঁজ মানুষের তালিকা। কিন্তু ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষগুলোর পাশাপাশি চাপা পড়েছে আরও কিছু ভয়ংকর প্রশ্ন—এত বড় বিপর্যয় কি সত্যিই পুরোপুরি প্রাকৃতিক, নাকি কর্তৃপক্ষের অবহেলা? সময়মতো সতর্কতা ও প্রস্তুতি থাকলে কি বাঁচানো যেত আরও বহু প্রাণ?

নেপালের জন্য বন্যা, ভূমিধস কিংবা আকস্মিক দুর্যোগ নতুন কোনো ঘটনা নয়। অতীতেও বারবার এমন বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে দেশটি। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে—এত অভিজ্ঞতার পরও নেপাল কতটা প্রস্তুত ছিল? আগের দুর্যোগগুলো থেকে কি সত্যিই কোনো শিক্ষা নিয়েছিল দেশটি? নাকি প্রতিবারের মতো বিপর্যয়ের পর শোক বার্তা পর্যন্তই ছিল।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে আগাম সতর্কতা নিয়ে। দুর্যোগের উৎসস্থলে বিপর্যয়ের পর নিচের দিকে ভয়ংকর পানির ঢল পৌঁছাতে বেশ কিছুটা সময় লেগেছিল। তাহলে সেই সময়টুকু কেন কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি? ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে সতর্ক করতে কোথায় ছিল কার্যকর ব্যবস্থা?

মানুষ কি সময়মতো সতর্কবার্তা পেয়েছিল? সাইরেন বেজেছিল? স্থানীয় প্রশাসন কি ঘরে ঘরে খবর পৌঁছে দিয়েছিল? নাকি মানুষ বিপদের খবর পেয়েছে তখন, যখন বাঁচার পথ প্রায় শেষ?

এছাড়া হিমালয়ের দুর্গম অঞ্চল আজ আর পুরোপুরি প্রযুক্তির বাইরে নয়। স্যাটেলাইট আছে, রিমোট সেন্সরিং ব্যাবস্থা আছে, আধুনিক আবহাওয়া ও ভূ-পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি আছে। তাহলে বিপর্যয়ের উৎসস্থলে কী ঘটছিল, তার তথ্য কেন আগে পাওয়া যায়নি?

চীন কি উজানের পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো তথ্য জানত? জানলে সেই তথ্য নেপালের কাছে কত দ্রুত পৌঁছেছিল?

আর বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মালিক দেশগুলো—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো—এই ধরনের ভয়াবহ বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে কি আরও দ্রুত তথ্য সরবরাহ করতে পারত না?

প্রাণহানির সংখ্যা নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন রহস্য ও উদ্বেগ। প্রথমে মৃত্যুর সংখ্যা জানানো হয়েছিল ১৮০ এর কাছাকাছি, অল্প সময়ের মধ্যেই তা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে নিখোঁজ মানুষের তালিকাও। তাহলে প্রশ্ন ওঠে শুরুতে নেপাল সরকারের কাছে প্রকৃত পরিস্থিতির কোনো পরিষ্কার চিত্র ছিল না?

কত মানুষ মারা গেছে, কতজন নিখোঁজ —বিপর্যয়ের এত সময় পরও কি সেই হিসাব পুরোপুরি জানা যায়নি?

সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটি হলো—নেপাল কি আগের দুর্যোগ থেকে সত্যিই শিক্ষা নিয়েছিল?

হিমালয় অঞ্চল যে ক্রমেই ভয়ংকর ঝুঁকির দিকে যাচ্ছে, তা নতুন কোনো সতর্কবার্তা নয়। হিমবাহ গলছে, পাহাড় অস্থিতিশীল হচ্ছে, ভূমিধস বাড়ছে, আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও বাড়ছে। বিজ্ঞানীরা বহুদিন ধরেই এই অঞ্চলের বিপদ নিয়ে সতর্ক করে আসছেন।

তারপরও কেন হিমালয়ের মতো বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক অঞ্চলের জন্য একটি শক্তিশালী, সমন্বিত ও রিয়েল-টাইম আন্তর্জাতিক আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি?

এই প্রশ্নের দায় কি শুধু নেপাল সরকারের? নাকি দায় রয়েছে সীমান্তবর্তী দেশগুলোর তথ্য বিনিময় ব্যবস্থারও?

এক দেশের পাহাড়ে তৈরি হওয়া বিপদ মুহূর্তের মধ্যে অন্য দেশের মানুষের জীবন কেড়ে নিতে পারে। অথচ সেই হিমালয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে এখনও একটি কার্যকর ও সমন্বিত দুর্যোগ সতর্কীকরণ ব্যবস্থা না থাকা কি নিজেই একটি বড় ব্যর্থতার প্রশ্ন নয়?

নেপালের এই ট্র্যাজেডির প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত ও আরও তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু একটি প্রশ্ন এখনই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই—

এত মানুষের মৃত্যু কি শুধু প্রকৃতির নির্মমতা?

কারণ পরবর্তী বিপর্যয় আসার আগে যদি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা না হয়, তাহলে আবারও হয়তো একই দৃশ্য দেখা যাবে—পাহাড় থেকে নেমে আসবে মৃত্যু।

0 লাইক

আপনার মতামত দিন

মন্তব্য করতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।