নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা: মৃত অন্তত ১৫৭, নিখোঁজ শত শত মানুষ
বিদেশ বার্তা ডেস্ক: নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপালে অন্তত ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিব্বতের অংশে আরও অন্তত ৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফলে দুই অঞ্চলে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৬০ জনে। এখনও শত শত মানুষ নিখোঁজ থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্যোগ ঘটে। প্রাথমিক তদন্ত ও স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়ের উঁচু অংশে একটি হিমবাহের অংশ ধসে পড়ার পর বরফ, পাথর ও বিপুল ধ্বংসাবশেষ নিচের উপত্যকায় নেমে আসে। এতে নদীর পানির প্রবাহে আকস্মিক পরিবর্তন ঘটে এবং সৃষ্টি হয় শক্তিশালী বন্যার ঢল।
নেপালি কর্মকর্তাদের মতে, বন্যার আগে ওই এলাকায় একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। তবে বিশেষজ্ঞরা এখনো নিশ্চিতভাবে হিমবাহ ধসের মূল কারণ নির্ধারণ করতে পারেননি।
বন্যার প্রবল স্রোতে রাস্তা, সেতু, বাড়িঘর এবং জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধার অভিযানও কঠিন হয়ে উঠেছে। নেপালের বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৪ শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটকও আছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন।
হিমালয় অঞ্চলে দ্রুত পরিবর্তনশীল জলবায়ু ও হিমবাহের অস্থিতিশীলতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উষ্ণায়নের কারণে হিমবাহ গলে যাওয়া ও বরফের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ায় এ ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়ছে।