×
হোম আন্তর্জাতিক জাতীয় খেলাধুলা বিনোদন চাকরির খবর ই-ম্যাগাজিন
অনলাইন টুলস
টাইপিং টেস্ট CV মেকার ফটো রিসাইজার Age ক্যালকুলেটর AI কন্টেন্ট ডিটেক্টর প্লাজিয়ারিজম চেকার সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর লগইন

বালোগুন কেলেঙ্কারি: ফিফা ও মার্কিন ফুটবলের জন্য এক নতুন কলঙ্ক?

বিদেশ বার্তা | ফুটবল | ২৮ জুলাই, ২০২৬
News Image

বিশ্বকাপ-২০২৬ এ মাঠের ফুটবলের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক। অনেক এটিকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করছেন। একই সাথে প্রশ্ন উঠেছে—ফিফার কি রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করেছে?

কী ঘটেছিল?

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন বালোগুন। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ম্যাচে তাঁর এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নকআউট পর্বে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি সেই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা স্থগিত করে। ফলে বালোগুন খেলতে পারেন।

এই সিদ্ধান্তের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘটনাটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। এরপরই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হওয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ আরও জোরালো হয়ে ওঠে। যদিও ফিফা দাবি করেছে, সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে তাদের শৃঙ্খলাবিধির আওতায় ছিল এবং স্বাধীনভাবে নেওয়া হয়েছে।

কেন এত সমালোচনা?

ফুটবলের অন্যতম মৌলিক নীতি হলো—লাল কার্ডের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। সমালোচকদের মতে, বিশ্বকাপের মাঝপথে এই নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটানো ফিফার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

বিশেষ করে অভিযোগ উঠেছে, শক্তিশালী স্বাগতিক দেশের স্বার্থ রক্ষায় নিয়মের ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক চাপের মাধ্যমে শাস্তি পরিবর্তনের নজির তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।

আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলের প্রতিক্রিয়া

ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা UEFA প্রকাশ্যে ফিফার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে। তাদের বক্তব্য, এটি টুর্নামেন্টের ন্যায়সংগত প্রতিযোগিতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং লাল কার্ডের স্বয়ংক্রিয় শাস্তিকে দুর্বল করে দেয়।

অন্যদিকে বেলজিয়ান ফুটবল ফেডারেশনও আপত্তি জানিয়ে বিষয়টি আরও উচ্চ পর্যায়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

ফিফা পাল্টা বিবৃতিতে জানায়, তাদের শৃঙ্খলাবিধির ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে শাস্তির কার্যকারিতা স্থগিত রাখা সম্ভব। সংস্থাটি আরও দাবি করে, ইউরোপীয় ফুটবলেও এমন প্রশাসনিক বিবেচনার নজির রয়েছে।

ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মত

অনেক সাবেক ফুটবলার, বিশ্লেষক ও আইন বিশেষজ্ঞ এই ঘটনাকে "বিপজ্জনক নজির" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মতে—

বিশ্বকাপে নিয়ম সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। রাজনৈতিক নেতাদের প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ ফুটবলের স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এবং ভবিষ্যতে বড় দেশগুলোর জন্য আলাদা সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ আরও বাড়তে পারে।

শেষ পর্যন্ত কী হলো?

সব বিতর্কের পর বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেললেও বালোগুন তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্র ৪–১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়। ফলে মাঠের ফলাফল বিতর্ককে চাপা দিতে পারেনি; বরং পুরো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকে ফিফার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।

এটি কি ফিফার জন্য কলঙ্ক?

এ মুহূর্তে একে আনুষ্ঠানিকভাবে "ফিফার কলঙ্ক" বলা যাবে না, কারণ বিষয়টি নিয়ে কোনো স্বাধীন তদন্ত বা আদালতের চূড়ান্ত রায় হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, ফুটবল বিশ্লেষক এবং বিভিন্ন ফুটবল প্রশাসকের প্রতিক্রিয়া থেকে স্পষ্ট যে, এই সিদ্ধান্ত ফিফার নিরপেক্ষতা ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। ভবিষ্যতে যদি এ ধরনের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে ব্যাখ্যা করা না যায়, তাহলে বালোগুন বিতর্ক ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় প্রশাসনিক কেলেঙ্কারি হিসেবেই ইতিহাসে থেকে যেতে পারে।

0 লাইক

আপনার মতামত দিন

মন্তব্য করতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।