×
হোম আন্তর্জাতিক জাতীয় খেলাধুলা জীবনযাপন চাকরির খবর তথ্যকোষ ই-ম্যাগাজিন
অনলাইন টুলস
টাইপিং টেস্ট CV মেকার ফটো রিসাইজার Age ক্যালকুলেটর AI কন্টেন্ট ডিটেক্টর প্লাজিয়ারিজম চেকার অন্যান্য টুলস লগইন

৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাবে দেশ? বাতিল হতে যাচ্ছে শেখ মুজিবের বিতর্কিত ‘জাতির পিতা’ স্বীকৃতি?

বিদেশ বার্তা | রাজনীতি | ৪ আগস্ট, ২০২৬
News Image

বিশেষ প্রতিবেদন

বাংলাদেশ সংবিধানে শেখ মুজিবুর রহমানের 'জাতির পিতা' হিসাবে স্বীকৃতি ও তার প্রতিকৃতি সংরক্ষণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে যা নিয়ে  সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, শেখ হাসিনার আমলে করা পঞ্চদশ সংশোধনী এবং এর যুক্ত হওয়া কিছু অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে পর্যালোচনা জোরদার হয়েছে।

​সাংবিধানিক ইতিহাস ও অনুচ্ছেদ ৪ক-এর উৎপত্তি

১৯৭২ সালে রচিত বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসাবে উল্লেখ করে সরাসরি কোনো অনুচ্ছেদ ছিল না।

  • পঞ্চদশ সংশোধনী (২০১১): ২০১১ সালে নবম জাতীয় সংসদে গৃহীত পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ৪ক অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয়। এতে বলা হয়:​"জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির কার্যালয় এবং সকল সরকারি ও আধাসরকারী অফিস, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রধান ও শাখা কার্যালয়, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন ও আইন দ্বারা নির্দিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করতে হবে।"
  • মূল নীতি ও অপরিবর্তনীয় ধারা: এই সংশোধনীতে ৭খ অনুচ্ছেদ যুক্ত করে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোসহ বেশ কিছু অংশকে 'অসংশোধনযোগ্য' হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যার মধ্যে ৪ক অনুচ্ছেদও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বর্তমান আইনি চ্যালেঞ্জ ও রাষ্ট্রপক্ষের অবস্থান

জুলাই বিপ্লবের পরে ২০২৪ সালের শেষভাগে হাইকোর্টে পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে একাধিক রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। রিট শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কর্মকর্তা (অ্যাটর্নি জেনারেল) সংবিধান থেকে এই বিধানটি বাতিলের পক্ষে বেশ কিছু আইনি যুক্তি তুলে ধরেন:

মূল সংবিধানের চেতনা: রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে ‘জাতির পিতা’ নামে কোনো সাংবিধানিক পদ বা স্বীকৃতি ছিল না। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে পদটি যুক্ত করে জনগণের ওপর দলীয় ভাবধারা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। ফলে দেশকে ৭১ এর চেতনায় ফিরে যেতে হলে পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করতে হবে।

জাতীয় ঐকমত্যের অভাব: আইন কর্মকর্তাদের মতে, সংবিধানে এমন কোনো একক ব্যক্তিকে বাধ্যতামূলকভাবে বসানো উচিত নয় যা নিয়ে জাতীয় বিভাজন তৈরি হয়। তাছাড়া সংবিধানে অসংশোধন যোগ্য এমন কোন ধারা যোগ করা যায় কিনা এটা নিয়েও অনেক বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছেন।

জাতীয় দিবস ও প্রজ্ঞাপন বাতিল

সংবিধান সংশোধনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে একাধিক রাষ্ট্রীয় বিধান বাতিল করেছিল। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে মন্ত্রিপরিষদ  বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ১৫ আগস্ট (জাতীয় শোক দিবস), ১৭ মার্চ (শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী) সহ মোট ৮টি জাতীয় দিবস বাতিল করা হয়। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সরকারি অফিস ও কার্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টাঙানোর বাধ্যবাধকতা সংক্রান্ত আইনি কার্যকারিতা স্থগিত হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন সংস্থা থেকে তা সরিয়ে নেওয়া হয়।

সংবিধান সংস্কার কমিশনের ভূমিকা

তবে ​বর্তমান আইনি কাঠামো পুনর্গঠনে গঠিত সংবিধান সংস্কার কমিশন সাংবিধানিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে। সংস্কার প্রস্তাবের প্রধান দিকগুলো হলো:

​১. পঞ্চদশ সংশোধনীর বাতিল বা সংশোধন: পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আনা বিতর্কিত পরিবর্তনগুলো ছেঁটে ফেলার প্রস্তাব রয়েছে, যার মধ্যে ৪ক অনুচ্ছেদ অন্যতম।

২. মূল সংবিধানে প্রত্যাবর্তন: ১৯৭২ সালের সংবিধানে যে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও রূপরেখা ছিল, সেটিতে ফিরে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

৩. জনমতের প্রতিফলন: চূড়ান্তভাবে সংবিধানের এই ধারাটি বাতিল করা হবে নাকি নতুন কোনো সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনা হবে, তা পরবর্তী গণভোট বা নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

তাই বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে,​সংবিধান থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ‘জাতির পিতা’ স্বীকৃতি বাতিলের খবরটি কেবল একটি গুঞ্জন নয়, এটি একটি চলমান আইনি ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে উঠেছে। হাইকোর্টে পঞ্চদশ সংশোধনীর চূড়ান্ত রায় এবং সংবিধান সংস্কার কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে ৪ক অনুচ্ছেদটি আনুষ্ঠানিকভাবে সংবিধান থেকে বাদ পড়তে পারে। এর মাধ্যমে সাংবিধানিক ধারাকে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের কাছাকাছি ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।

0 লাইক

আপনার মতামত দিন

মন্তব্য করতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।