×
হোম আন্তর্জাতিক জাতীয় খেলাধুলা জীবনযাপন চাকরির খবর তথ্যকোষ ই-ম্যাগাজিন
অনলাইন টুলস
টাইপিং টেস্ট CV মেকার ফটো রিসাইজার Age ক্যালকুলেটর AI কন্টেন্ট ডিটেক্টর প্লাজিয়ারিজম চেকার অন্যান্য টুলস লগইন

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে ভারত-সম্পর্কিত নিদর্শন সরানোর অভিযোগ, উঠছে ইতিহাস সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন

বিদেশ বার্তা | রাজনীতি | ৯ আগস্ট, ২০২৬
News Image

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ৯ আগস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর থেকে ভারত-সম্পর্কিত বেশ কিছু নিদর্শন ও কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জাদুঘর পরিদর্শনের পর এ অভিযোগ করেন। একই বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এনসিপির নেতা আসিফ মাহমুদ।

নাহিদ ইসলামের দাবি, আগে জাদুঘরে সীমান্ত হত্যার একটি আলাদা অংশ, বিএসএফের হাতে নিহত বাংলাদেশিদের তালিকা এবং ফেলানী হত্যাকাণ্ডের একটি ভাস্কর্য ছিল। এছাড়া নরেন্দ্র মোদি-বিরোধী আন্দোলনের ছবি ও তথ্য এবং ‘লং ওয়াক টু ডেমোক্রেসি’ অংশে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির একটি বইয়ের রেফারেন্সও ছিল বলে তিনি দাবি করেন। এসবের কিছু এখন আর দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁর।

এনসিপির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, ‘মার্চ টু ঢাকা’ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে নিপীড়নের ইতিহাসের কিছু অংশেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। জাদুঘর কর্তৃপক্ষ বা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আগে ও বর্তমান প্রদর্শনীর তুলনামূলক কোনো বিস্তারিত তালিকাও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে কনটেন্টগুলো সরানো হয়েছে কি না, হলে কেন সরানো হয়েছে—এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভারতকে বিব্রত না করার অভিযোগ

নাহিদ ইসলাম দাবি করেছেন, ভারতকে নিয়ে অস্বস্তির কারণে এসব নিদর্শন বাদ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

তবে কনটেন্ট পরিবর্তনের পেছনে প্রদর্শনীর পুনর্বিন্যাস, কিউরেটোরিয়াল সিদ্ধান্ত, স্থান সংকট বা অন্য কোনো প্রশাসনিক কারণও থাকতে পারে। তাই বিষয়টি পরিষ্কার করতে জাদুঘর কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

ইতিহাস সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্দেশ্য হলো জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস, জুলাই আন্দোলনের কারন, শহীদদের স্মৃতি, দলিলপত্র ও বিভিন্ন নিদর্শন সংরক্ষণ ও প্রদর্শন। ফলে সীমান্ত হত্যা, ফেলানী হত্যাকাণ্ড, ভারতবিরোধী আন্দোলনসহ জুলাইয়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কোনো ঘটনা প্রদর্শনীতে না থাকলে সেটি কীভাবে সম্পূর্ণ জুলাই অভ্যুত্থানকে উপস্থাপন করবে, তা জানা ইতিহাসের পূর্ণতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া জাদুঘর কোনো দেশের বিরুদ্ধে প্রচারণার জায়গা নয়। একই সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনাও আড়াল করা উচিত নয়—এমন মতও রয়েছে।

স্বচ্ছতার দাবি

জাদুঘরকে ঘিরে চলমান বিতর্কের অবসানে পূর্বের ও বর্তমানর প্রদর্শনীর পার্থক্য প্রকাশ করা হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। কোন নিদর্শন পরিবর্তন করা হয়েছে কিনা, কেন করা হয়েছে এবং কার সিদ্ধান্তে করা হয়েছে—এসব তথ্য প্রকাশ করা হলে অভিযোগের সত্যতা সহজেই পরিষ্কার হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে দলিল, প্রমাণ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দেওয়াই জাদুঘরের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি।

0 লাইক

আপনার মতামত দিন

মন্তব্য করতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।