×
হোম আন্তর্জাতিক জাতীয় খেলাধুলা জীবনযাপন চাকরির খবর তথ্যকোষ ম্যাগাজিন
অনলাইন টুলস
টাইপিং টেস্ট CV মেকার ফটো রিসাইজার Age ক্যালকুলেটর AI কন্টেন্ট ডিটেক্টর প্লাজিয়ারিজম চেকার অন্যান্য টুলস লগইন

ব্যালন ডি’অর ২০২৬ লড়াইয়ে কে এগিয়ে আছে?

বিদেশ বার্তা | ফুটবল | ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্যালন ডি’অর ২০২৬ লড়াইয়ে কে এগিয়ে আছে?

ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড় বেশ জমে উঠেছে। ২০২৬ সালে ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন হ্যারি কেইন, কিলিয়ান এমবাপ্পে, লামিনে ইয়ামাল, রদ্রি, লিওনেল মেসি, আর্লিং হলান্ড, উসমান দেম্বেলে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রসহ বিশ্ব ফুটবলের বড় বড় তারকারা। চূড়ান্ত পুরস্কার দেওয়া হবে আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে।

এরই মধ্যে বিভিন্ন পত্রিকা জার্নাল ও মিডিয়া হাউজ ব্যালন ডি'অর এর দৌড়ে কে এগিয়ে তা নিয়ে যুক্তি দিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন বিখ্যাত ফুটবলার তাদের পছন্দের ফুটবলারকে ভোট দেবেন বলছেন। তাই প্রশ্ন এখন একটাই—এই তালিকায় এই মুহূর্তে কাকে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা যায়?

আমার বিচারে, এবারের দৌড়ে রদ্রিকে সামান্য এগিয়ে রাখবো।

এর সবচেয়ে বড় কারণ ২০২৬ বিশ্বকাপ। স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানোর পাশাপাশি পুরো আসরের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’ পেয়েছেন রদ্রি। আট ম্যাচে স্পেনের মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১০৫টি পাসের মধ্যে ১০১টি সফল করেন তিনি এবং ৮০ শতাংশ ডুয়েল জেতেন। পুরো টুর্নামেন্টে স্পেন মাত্র একটি গোল হজম করে।

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পাওয়া ব্যালন ডি’অরের ভোটে রদ্রিকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। বিশেষ করে তিনি গোল বা অ্যাসিস্টের সংখ্যার ওপর নির্ভর না করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ, পাসিং ও মাঝমাঠের প্রভাব দিয়ে পার্থক্য তৈরি করেছেন।

তবে রদ্রির সামনে সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হবে হ্যারি কেইন। ২০২৫-২৬ মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ডের হয়ে ৭৩ গোল করেছেন ইংলিশ এই স্ট্রাইকার। তাই এই বিশাল গোল সংখ্যা ব্যালন ডি’অরের ভোট বড় ভূমিকা রাখবে বলেই মনে হয়।

আরেক বড় দাবিদার কিলিয়ান এমবাপ্পে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ২০২৫-২৬ মৌসুমে ৪২ গোল করেছেন তিনি। লা লিগায় ২৫ গোল করে টানা দ্বিতীয়বার পিচিচি ট্রফি জিতেছেন এবং চ্যাম্পিয়নস লিগেও ১৫ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। এর সঙ্গে বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স যোগ করলে এমবাপ্পের প্রার্থিতাও অত্যন্ত শক্তিশালী। ফ্রান্স বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও এমবাপ্পে ৮ ম্যাচে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছেন।

এছাড়া লামিনে ইয়ামাল আলোচনার বাইরে নন। বার্সেলোনাকে লা লিগা জেতাতে ১৬ গোল ও ১১ অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি এবং ২০২৫-২৬ মৌসুমের লা লিগার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। বিশ্বকাপেও স্পেনের শিরোপাজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন তিনি। ফলে মাত্র ১৯ বছর বয়সেই টানা তৃতীয়বার ব্যালন ডি’অরের মনোনয়ন পাওয়া ইয়ামালের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ রয়েছে।

গতবারের বিজয়ী উসমান দেম্বেলেকেও অবশ্য হিসাবের বাইরে রাখা যায় না। ২০২৫ সালে ব্যালন ডি’অর জেতার পর এবারও তিনি ফ্রান্স ও পিএসজির হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির হয়ে তার মোট গোলসংখ্যা এখন ২০, যার মধ্যে ২০২৫-২৬ মৌসুমে আটটি।

সব মিলিয়ে এবারের ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে কয়েকজনের দাবিই আলাদা কারণে শক্তিশালী। কেইনের গোল, এমবাপ্পের ক্লাব ও বিশ্বকাপের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, ইয়ামালের সৃজনশীলতা এবং দেম্বেলের পিএসজির সাফল্যের বিপরীতে রদ্রির হাতে রয়েছে বিশ্বকাপ শিরোপার সঙ্গে টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি।

তাই শুধু গোলসংখ্যা নয়, পুরো মৌসুমের প্রভাব এবং বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স একসঙ্গে বিবেচনা করলে রদ্রিকে এবারের ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে সামান্য এগিয়ে রাখা যায়। তবে ২৬ অক্টোবরের আগে ফল নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই—কারণ কেইন, এমবাপ্পে, ইয়ামাল ও অন্যদেরও শক্তিশালী দাবি রয়েছে।

শেষ হাসি কে হাসবেন, তার উত্তর মিলবে লন্ডনের মঞ্চে।

0 লাইক

আপনার মতামত দিন

মন্তব্য করতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।