ইরান যুদ্ধে কি পরাজয়ের মুখে যুক্তরাষ্ট্র?
ইরান-আমেরিকা-ইসরায়েল এই ত্রিদেশীয় যুদ্ধে, ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে পাল্টা আঘাত হিসেবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালিয়েছে। স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে বেশ কিছু মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও উঠে এসেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একাধিক ফাইটার জেট, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং রাডার ধ্বংস করেছে ইরান।
এসব ঘাঁটির অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে সামরিকভাবে নিবৃত্ত রাখা। কিন্তু ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় যখন সেই ঘাঁটিগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক প্রতিরোধক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পরিস্থিতি ওয়াশিংটনের জন্য আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান এখনো নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে এবং প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে একাধিক শর্ত সামনে রাখছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে ইরানের চেয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে। বরং বাস্তবতা হলো—যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ব্যাপক সামরিক ক্ষতি চাপিয়ে দিতে সক্ষম হলেও যুদ্ধের রাজনৈতিক ও কৌশলগত লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়েছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
যদি যুদ্ধের শেষপর্যায়ে ইরানকে আত্মসমর্পণ বা তার মূল অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য করা না যায়, আর উল্টো যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার পথে যেতে হয়, তাহলে সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব থাকা সত্ত্বেও এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ব্যর্থতা বা পরাজয় হিসেবে বিবেচনা করার যথেষ্ট কারণ থাকবে।
অসম শক্তির এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সামরিক সক্ষমতা সত্ত্বেও ইরান যদি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে পারে, তাহলে সেটিই তেহরানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত সাফল্য হয়ে উঠতে পারে।
শেষ পর্যন্ত কে বিজয়ী আর কে পরাজিত—তা নির্ধারণ করবে যুদ্ধের শেষ সমঝোতা। তবে একটি বিষয় ইতোমধ্যে স্পষ্ট: যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব ইরানকে সহজে নত করতে পারেনি।