×
হোম আন্তর্জাতিক জাতীয় খেলাধুলা জীবনযাপন চাকরির খবর ম্যাগাজিন তথ্যকোষ
অনলাইন টুলস
টাইপিং টেস্ট CV মেকার ফটো রিসাইজার Age ক্যালকুলেটর AI কন্টেন্ট ডিটেক্টর প্লাজিয়ারিজম চেকার অন্যান্য টুলস লগইন

তুমুল বিক্ষোভের মুখে ভারত সরকার, গদি টিকবে তো মোদির?

বিদেশ বার্তা | উপমহাদেশ | ১১ অক্টোবর, ২০২৬
তুমুল বিক্ষোভের মুখে ভারত সরকার, গদি টিকবে তো মোদির?

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ, ধরপাকড় ও রাজনৈতিক উত্তেজনা ঘিরে নতুন করে চাপে পড়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন —সব মিলিয়ে ভারতের রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন অস্থিরতা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিরোধীদের পাশাপাশি তরুণ আন্দোলনকারীরাও নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছেন। তবে এই আন্দোলন মোদি সরকারের পতনের দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

গত ১০ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয় পুলিশ। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভ ঠেকাতে দুই হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চলাচল ও জমায়েতের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। বিক্ষোভের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করা।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে সুবিধা দিতে এমন কাজ করা হয়েছে বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের। বিরোধী দলগুলোও নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যদিও বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, তালিকা থেকে মৃত ব্যক্তি, দ্বৈত ও অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই সংশোধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে অভিযোগকারী জনতা ও সরকারের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র বিরোধ।

এই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে তরুণদের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। বেকারত্ব, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং তরুণদের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদ থেকে সংগঠনটির উত্থান। এর আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘিরে আন্দোলনের চাপের মুখে গত জুলাইয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। ফলে তরুণদের এই আন্দোলন যে সরকারের জন্য রাজনৈতিক অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে, তা অস্বীকার করা কঠিন।

শনিবারের বিক্ষোভের আগে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং আরও দুই নেতাকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয় বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আন্দোলনকারীরা অবশ্য পিছু হটার ইঙ্গিত দেননি। বরং নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে জবাবদিহির দাবি অব্যাহত রেখেছেন। বিরোধী নেতারাও পুলিশের পদক্ষেপ ও বিক্ষোভকারীদের আটকের ঘটনায় সরকারের সমালোচনা করেছেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই বিক্ষোভ কি নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতার ভিত নাড়িয়ে দিতে পারবে?

বিদেশ বার্তা বিশ্লেষণ: দিল্লির বিক্ষোভ মোদি সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। তবে ‘গদি থাকবে, না যাবে’—তার উত্তর এখনই দেওয়ার সময় আসেনি। আন্দোলনের ব্যাপ্তি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জনসমর্থনের পরিবর্তনই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে এই রাজনৈতিক চাপ কতটা গভীর হয়।

0 লাইক

আপনার মতামত দিন

মন্তব্য করতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।