বিশ্ব কাঁপানো বাংলাদেশের মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’
লালন পালন ও নামকরণঃ
এই নামকরণের পেছনে রয়েছে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী কিছু শারীরিক বৈশিষ্ট্য:
গোলাপি গায়ের রং: সাধারণ মহিষের মতো এই মহিষটি কালো বা ধূসর নয়, বরং পুরো শরীর জুড়ে রয়েছে একটি ফ্যাকাশে গোলাপি আভা।
সোনালি চুল: এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকটি হলো মাথার সামনের অংশের বড় ঢেউখেলানো চুল, যা দেখতে অনেকটা সোনালি বা হালকা বাদামী রঙের।
নেটিজেনদের মত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিগনেচার হেয়ারস্টাইল, গায়ের রঙ ও মুখের গড়নের সাথে মহিষটির অদ্ভুত মিল থাকায় খামারির ছোট ভাই ভালোবেসে এর নাম রাখেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
বিরল জাত নাকি জিনের খেলা?
প্রাণিবিজ্ঞানীদের মতে, এটি কোনো নতুন প্রজাতির মহিষ নয়। এটি মূলত অ্যালবিনো (Albino) বা সাদা-গোলাপি রঙের মহিষ। অনেক সময় মহিষের দেহে জিনগত পরিবর্তনের কারণে শরীরে মেলানিন কমে যায় বা অনুপস্থিত থাকে যার ফলে প্রাণীগুলোর গায়ের রং ও লোম এমন সাদা, ক্রিম বা গোলাপি আভাযুক্ত হতে পারে। এটি অত্যন্ত বিরল একটি জিনগত বৈশিষ্ট্য।
আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় রাজনৈতিক ট্রল
মহিষটির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য ইনডিপেনডেন্ট, আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং এএফপি একে নিয়ে বিশেষ ফিচার প্রকাশ করে।
একটি মজার তথ্য: আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও এটি ট্রলের খোরাক যোগায়। বিশেষ করে ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের সূত্র ধরে ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীরা আমেরিকার আসল ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খোঁচা দিতে বাংলাদেশের এই মহিষটির ভিডিও ও ছবি ব্যবহার করে ট্রল শুরু করে।
(এদিকে ইন্টারনেটে একটি ভুয়া স্ক্রিনশটও ভাইরাল হয়, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যালে এই মহিষের প্রশংসা করে পোস্ট করেছেন—তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে সেই দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও এডিটেড।)
কোরবানি থেকে রক্ষা ও নতুন ঠিকানা
কোরবানির উদ্দেশ্যে মহিষটিকে চড়া দামে বিক্রি করা হলেও, এর বিরল বৈশিষ্ট্য এবং এটি নিয়ে তৈরি হওয়া বিশ্বব্যাপী তুমুল জনপ্রিয়তা ও কৌতূহলের কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকার একটি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেয়। শেষ মুহূর্তে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নির্দেশনায় পুলিশ মহিষটিকে আনুষ্ঠানিক ভাবে হেফাজতে নেয় এবং কোরবানি দেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়।
সরকারের সিদ্ধান্তে মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য ঢাকার মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়।
বর্তমান অবস্থা ও রাজকীয় আতিথেয়তা
বর্তমানে মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানার ‘এল-০৭’ নম্বর খাঁচায় মহিষটির রাজকীয় দিন কাটছে। খাঁচার সামনে পরিচয়ফলকে লেখা রয়েছে—‘সাদা মহিষ (ডোনাল্ড ট্রাম্প)’।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রয়েছে:
নেপিয়ার ঘাস: ২৫ কেজি
ছোলা ও ভুষি: ৫ কেজি
পানি: প্রায় আধা মণ (২০ লিটার+)
স্বভাবগতভাবে অত্যন্ত শান্ত ও রাজকীয় ঢঙে চলাফেরা করা এই মহিষটি দেখতে এখন প্রতিদিন চিড়িয়াখানায় শত শত দর্শনার্থী ভিড় জমাচ্ছেন। কোরবানি হাটের ট্র্যাজেডি এড়িয়ে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ এখন জাতীয় চিড়িয়াখানার অন্যতম সেরা আকর্ষণ!